
হসপিটালরহস্য 💀
২য় পর্ব ۔
.
এই হাসপাতালে মানুষ যদি আসলেই বিনা কারণে সুইসাইড করে, তাহলে আমি নিরুপায় হয়ে ভূতে বিশ্বাস করতে বাধ্য। আচ্ছা এই হাসপাতালে কোনো আত্মার অভিশাপ টাইপের কিছু নয়তো?উফফফ… এগুলো কি ভাবছি আমি?
আমার মাথা একদম কাজ করছেনা। কিন্তু আমি নিশ্চিত, অন্তত একটা সুইসাইডের কারণ বের করতে পারলে বাকি সুইসাইডের রহস্যগুলোও ঠিক বের হয়ে আসবে।
.
আমি রিয়ার সম্পর্কে আরো খুঁজ নিলাম। জানতে পারলাম ২বছর ধরে ফাহাদ নামের একটা ছেলের সাথে রিলেশনে আছে। বুঝতে পারলাম ওই নাম্বারটা তার বয়ফ্রেন্ডের নাম্বার। ৩৯মিনিট ১৩সেকেন্ডের শেষ কলটা তার বয়ফ্রেন্ড ফাহাদের সাথেই হয়েছিলো।
ফাহাদ। হসপিটাল থেকে যার বাসার দুরত্ব মাত্র ২০মিনিটের।
ফাহাদ সম্পর্কে খুঁজ নিয়ে আরো জানলাম, ফাহাদ এই এলাকার সবচাইতে বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে।
মারামারি, টাকা উড়ানো, পার্টি, মেয়ে মানুষ, এসব নিয়েই থাকতো।
ফাহাদের শত্রু সংখ্যাটাও কম না। তারচাইতে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, ওই হসপিটালে সুইসাইড করা বেশিরভাগ মানুষ ফাহাদের শত্রু।
তাই আমার নজরটা আপাতত ফাহাদের উপর। একটা মানুষ আর যাইহোক, কখনো নিজের জীবনটা বিনা কারণে দিবেনা। ওই ৩৯মিনিট ১৩সেকেন্ডের কলটায় কি এমন কথা হয়েছিলো সেটা আমার জানাটা ভীষণ দরকার।
কন্সটেবল আসিফ সহ আরো কয়েকজন নিয়ে তাড়াতাড়ি বের হলাম ফাহাদকে ধরে নিয়ে আসার জন্য”।

(সম্পূর্ণ গল্প পেতে আমার হুমায়ূন মজুমদার আইডি টা ফলো দিয়ে রাখুন, আমার আইডিতে সম্পূর্ণ গল্প পোস্ট করা আছে)
.
ফাহাদকে ধরে থানায় নিয়ে আসলাম। ছেলেটার চোখগুলো প্রচন্ড লাল ছিলো। অনেক বেশি কান্না করার পর চোখগুলো যেমন দেখায় ঠিক সেরকম।
ফাহাদকে কিছু জিজ্ঞাস করতে যাবো ঠিক এমন সময় আমার কাছে একটা কল আসলো৷ ডাক্তার সিনহার কল। ধরলাম। ওনি বললেন-
“স্যার রিয়া প্রেগন্যান্ট ছিলো”।
কথাটা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম।
ওহ মাই গড। এতো সময় ধরে ভাবছিলাম ফাহাদের কাছে রিয়াকে মেরে ফেলার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এখন”?
ফোনটা কেটে ফাহাদের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললাম-
-স্যালুট বস তোমাকে। তোমার ব্রেইনের প্রশংসা না করে পারছিনা। এখন বলো কিভাবে রিয়াকে সুইসাইড করতে বাধ্য করলে”?
বিষ্মিত কন্ঠে ফাহাদ বললো-
-স্যার আপনি পাগল হয়েছেন?
আমি ভালোবাসতাম রিয়াকে। মন থেকে ভালোবাসতাম। বুঝেছেন আপনি”?
ছেলেটার চোখ বলছে সে সত্য বলছে। কিন্তু আমি খোঁজ নিয়ে যে প্রমাণগুলো পেলাম, সেটা বলছে ছেলেটা খুনি। ফাহাদকে বলালাম-
-তোমাদের ভার্সিটি থেকে খোঁজ নিয়ে জানলাম লাস্ট এক দুই মাস ধরে তোমার আর রিয়ার মধ্যে বেশ ঝামেলা হচ্ছে। সম্পর্কটা ঠিক যাচ্ছেনা। এটার কারণ কি রিয়ার পেটের সন্তান ছিলো”?
ফাহাদ কিছু সময় মাথা নিচু করে বসে থাকলো। বললো-
-স্যার আমি আপনাকে সব সত্যি বলতেছি। হ্যা এটা ঠিক রিয়া যখন আমাকে জানায় ও প্রেগন্যান্ট, আমি প্রচন্ড রাগারাগি করেছিলাম।
আমি বলেছিলাম বাচ্চাটা যেনো নষ্ট করে দেয়। কিন্তু রিয়া রাজি ছিলোনা।
এজন্য আমাদের ভিতরে অনেক ঝগড়াও চলছিলো। আমি নিরুপায় হয়ে আমার ভুলের কথাটা ফ্যামিলিকে জানালাম। কারণ আমি রিয়াকে সত্যিকারের ভালোবাসতাম। বাবা প্রথমে রাগ করলেও ওইদিন রাতে সব মেনে নেন। আমি এটা জানানোর জন্যই রিয়াকে কল দেই। আমাদের মধ্যে অনেক সময় কথাও হয়েছিলো, প্রায় চল্লিশ মিনিট। কিন্তু কে জানতো রিয়ার কন্ঠটা আর কোনোদিন~~~~
ফাহাদ কথাটা পুরো না করেই কান্না শুরু করলো। কিন্তু এসব কান্না দেখে আমি গলে যাওয়ার মতো না। বললাম-
-রাত ১২টার পর তুমি একবার হাসপাতালে গিয়েছিলে। কয়েকজন সাক্ষীও আছে যারা তোমাকে হাসপাতালের ভিতরে যেতে দেখেছে। আর সবচাইতে বড় যে জিনিস, রিয়ার আগে নিশি নামের যে মেয়েটা সুইসাইড করে, ওই মেয়েটাও তোমার বন্ধু ছিলো। এবং আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি নিশি না’কি তোমাকে কিছু একটা নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতো। মানে যারাই তোমার শত্রু, তারাই সুইসাইড করছে। এটা কিভাবে সম্ভব”?
-স্যার আমাকে ফাসাচ্ছেন কেনো?
ওই হাসপাতালে খারাপ আত্মারা আছে স্যার। ওরাই এদেরকে মারছে। বিশ্বাস করুন”।
ছেলেটার কথা শুনে আমি হাসলাম। প্রচন্ড হাসলাম। ফাহাদ আবার বললো-
-স্যার ওইদিন আমি রিয়ার সাথে দেখা করতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম।
কিন্তু হাসপাতালের ভিতরে ঢুকা মাত্রই আমার কাছে আম্মুর কল আসে। উনার শরীর হুট করেই খারাপ হয়ে যায়।
আমি রিয়ার সাথে দেখা না করে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসি।
আর নিশির ব্ল্যাকমেইল?
হ্যা নিশি আমাকে ব্যাকমেইল করতো।
কারণ আমার আর রিয়ার প্যারসোনাল কিছু ছবি ওর কাছে ছিলো। এটা নিয়েই ব্ল্যাকমেইল করতো। কিন্তু নিশি হসপিটালে থাকার সময় না আমি নিশিকে কল দেই, না হাসপাতালে যাই। আমি কিভাবে নিশিকে মারবো?
আর আপনি ভুলে যাচ্ছেন স্যার, ওইখানে প্রতিটা লাশের রিপোর্টে আছে তারা সুইসাইড করেছে৷ নিজ ইচ্ছায়”।
ফাহাদের কথা শুনে কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেলাম। অংকটা মিলাছেনা। বললাম-
-বিষয়টা এরকম হতে পারে, রিয়ার সাথে কলে ওই ৩৯মিনিট ধরে তুমি ঝগড়া করলে। রিয়াকে বুঝানোর চেষ্টা করলে বাচ্চাটা যেনো নষ্ট করে দেয়। রিয়া যখন মানেনি তুমি ঠিক করলে রিয়াকে দুনিয়া থেকেই বিদায় করে দেওয়া যাক। এভাবে তোমার সব শত্রুদের তুমি সুইসাইড করতে বাধ্য করলে। কিভাবে বাধ্য করলে সেটা আমি জানিনা। বাকি রইলো পোস্টমর্টেম রিপোর্টের কথা, বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে তুমি। হতে পারে টাকার ক্ষমতার জোরে সব রিপোর্ট চেঞ্জ করে দিছো”।
-স্যার এমন কিচ্ছু হয়নি। বিশ্বাস না করলে আপনি আমার বাবাকে কল দিয়ে জিজ্ঞাস করুন। রিয়ার বিষয়ে উনাকে সব বলেছিলাম আমি৷ বিয়ের জন্য রাজিও করিয়েছিলাম। রিয়াকে মেরে ফেলার ইচ্ছা থাকলে বিয়ের জন্য বাবাকে রাজি করাতে যাবো কেনো”?
-সরি। যতোসময় অবধি তুমি নির্দোষ সেটার প্রমাণ পাওয়া না যায়, ততোক্ষণ তোমাকে থানাতেই থাকতে হবে”।
কথাটা বলে আমি চেয়ার থেকে উঠে যাই। ফাহাদ চিৎকার করে বলতে থাকে “স্যার বিশ্বাস করুন ওইখানে খারাপ আত্মারা আছে। বিশ্বাস করুন আমায়, আমি কিচ্ছু করিনি। স্যায়ায়ায়ার”।
আমি ফাহাদের কথা না শুনেই থানা থেকে বেরিয়ে আসলাম।
.
রাতে বাসায় এসে ঘুমাতে পারছি না। ছটফট করছে ভিতরটা। আসলেই কি ফাহাদ দোষী? নাকি অলৌকিক কিছু? কোনো মানুষ যদি এসব করে থাকে, তাহলে ফাহাদ ছাড়া অন্য কারো বিরুদ্ধে এখন আঙুল তুলা যাচ্ছেনা।
আর ফাহাদ যদি এসব না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবে ওইখানে আত্মারা?
উফ। কিছু ভাবতে পারছিনা আমি।
বিছানার এপাশ ওপাশ করে এসব চিন্তা করছি ঠিক এমন সময় আমার কাছে একটা কল আসলো। প্রায় ৮বছর হলো এই নাম্বার থেকে আমার কাছে কোনো কল আসেনা। আমার বেস্টফ্রেন্ড মুন্না। ডাক্তার মুন্না। ৮ বছর আগে জার্মানিতে গিয়েছিলো। ওইখানেই একটা হসপিটালে জব করে। কিন্তু ওর আগের নাম্বার থেকে কল পেয়ে বড্ড অবাক হলাম। ধরলাম-
-হ্যালো মেহরাব”।
-মুন্না তুই? এই নাম্বার থেকে”?
-আরে দোস্ত দেশে আসছি গতকাল।
সরি তোকে জানাতে পারিনি। আগামীকাল দেখা কর, সব খুলে বলছি”।
-কিন্তু মুন্না, অনেক ইম্পর্ট্যান্ট একটা কেস চলছে রে। আগামীকাল থানা আর হসপিটালে দৌড়াতে হবে”।
-ওকে, আমি তাহলে হসপিটালে আসি। বাংলাদেশের হসপিটাল দেখিনা বহুদিন, ওটাও দেখা হলো”।
-ওকে আমি তোকে এড্রেস দিচ্ছি”।
মুন্নাকে হসপিটালের এড্রেস দিয়ে কিছুটা ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
সকালে থানায় গিয়ে দেখলাম ফাহাদ দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। মনেহয় রাতে ঘুমায়নি। আমাকে দেখামাত্র বললো-
-মেহরাব স্যার, আপনার যদি আমাকে সন্দেহ হয় তাহলে ডাক্তার সিনহাকে সন্দেহ হচ্ছেনা কেনো”?
বড়সড় রকমের শকড খেলাম। ডাক্তার সিনহা? অবাক হয়ে ফাহাদকে বললাম-
-মানে? এখানে ডাক্তার সিনহার নাম আসছে কেনো? আমি উনাকে কাছ থেকে দেখেছি। উনি নিজেও এই ব্যাপারে বেশ চিন্তিত। নিজেও প্রচন্ড ভয়ে আছেন”।
আমার কথা শুনে ফাহাদ হাসলো। অনেক জোরে জোরে হেসে বললো-
-স্যার আপনি হয়তো জানেন না রিয়াকে ১বছর আগে ডাক্তার সিনহা বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু রিয়া সেটা না করে দেয়। অপমানের বদলা তো উনি নিতেই পারেন। আর নিশি তো ডাক্তার সিনহার বেড পার্টনার ছিলো৷ হয়তো ডাক্তার সিনহাকেও ব্ল্যাকমেইল করতো। খোঁজ নিয়ে দেখুন, বাকিদের সাথেও সিনহাকে কানেক্টেড পাবেন”।
আমি ফাহাদের কথা শুনে বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলাম। কি বলবো বুঝতে পারছিনা। অবাক কন্ঠে ফাহাদকে জিজ্ঞাস করলাম-
-তুমি এসব আমাকে গতকাল বলো’নি কেনো? আর এসব যে সত্যি সেটার প্রমাণ কি”?
-কারণ আমি জানি এসব ডাক্তার সিনহা করেন নি। ওইখানে যে আত্মারা আছে সবকিছু তারাই করছে। আর প্রমাণের বিষয়? আপনি নিজেই খবর নিয়ে দেখুন”।
আমার মাথা ঘুরতে শুরু করলো।
আমি তাড়াতাড়ি কন্সটেবল আসিফকে নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে গেলাম। আমাকে জানতে হবে ফাহাদের বলা কথাগুলো সত্য না মিথ্যা”।
.
খবর নিয়ে দেখলাম ফাহাদের কথায় সুতো পরিমাণ ও মিথ্যা নেই। তারমানে ডাক্তার সিনহা এসবের মূল? আমি জাস্ট ভাবতে পারছিনা।
কন্সটেবল আসিফকে নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ইচ্ছা করছিলো শালা সিনহাকে গাড়ি থেকেই পারলে গুলি করে মেরে দেই৷ শালা কত্ত বড় অভিনেতা।
হসপিটাল পৌছালাম। ডাক্তার সিনহার রুমটা ৫তলায়। সিড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে কন্সটেবল আসিফ আমাকে বললো-
-মেহরাব স্যার আমার ভয় লাগছে খুব। এটা হসপিটাল? এখানে রোগী, ডাক্তার, নার্স কিছুই তো নেই। সব কেমন যেনো খাঁ খাঁ করছে”। নিস্তব্ধ। ভয়ানক”।
আসিফের ভয়ার্ত কন্ঠ শুনেই বুঝা যাচ্ছে ছেলেটা কতোটা ভয় পাচ্ছে। বললাম-
-এখানে রোগী ছাড়া সবাই আছে।
সব ডাক্তার নার্স ভয়ে কোথাও ঘাপটি মেরে বসে আছে। এই সবকিছু শালা ডাক্তার সিনহা করেছে বুঝছো? শালাকে ধরে পেটানো দিলে সব বলে দিবে কেনো এসব করলো”।
-আমার কাছে তো অন্যকিছু মনে হচ্ছে স্যার। আমার ভয় লাগছে অনেক”।
কথাটা শুনে আমি রাগি চোখে কন্সটেবল আসিফের দিকে তাকালাম। ও সাথে সাথে চোখটা মাটিতে নামিয়ে নিলো। হয়তো বুঝতে পেরেছে আত্মা টাইপ কথাবার্তা আমার একদম পছন্দ না।
.
ডাক্তার সিনহার রুমে আসলাম। দেখলাম সিনহা তার চেয়ারে বসে আছে। গম্ভীরভাবে। শালাকে দেখেই ইচ্ছা করছিলো গুলি করে মেরে দেই।
নিজের রাগটা কন্ট্রোল করে উনার ঠিক সামনের চেয়ারটায় বসলাম।
কিছু বলতে যাবো ঠিক এমন সময় ডাক্তার সিনহা উঠে দাড়ালেন। অন্যরকম লাগছিলো।
আস্তে আস্তে হেটে জানালার কাছে গেলেন। আমি ঠিক তখনো বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে। উনার চেয়ার থেকে উঠা, আস্তে আস্তে হেটে জানালার কাছে যাওয়া, সবকিছু অন্যরকম।
কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই ডাক্তার সিনহা জানালা দিয়ে লাফ দিলেন।
আমি তাড়াতাড়ি জানালার কাছে গিয়ে নিচে তাকালাম, দেখলাম ডাক্তার সিনহার রক্তাক্ত শরীর মাটিতে পড়ে আছে। কন্সটেবল আসিফ চিৎকার করে উঠলো। মাই গড।
আরো একটা লাশ?? আরো একটা সুইসাইড?? সেটাও আবার আমার সামনে।
.
আগামী কাল অন্তীম অংশ …….




















