
আখাউড়ায় হত্যাকাণ্ড
পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় মাথা ও ছুরি
জেলা প্রতিনিধি : আখাউড়া উপজেলায় এক নারীকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া শানুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শারমিন আক্তার হরলুজা বেগমকে (৫০) খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শানুর ছেলে ফারহান ভূঁইয়া রনিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানায়, রনি এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারী। পুলিশের ধারণা, মাদকাসক্ত রনি ধর্ষণের পর শারমিনকে হত্যা করেছে।
জানা যায়, রহিমপুর গ্রামে পাশের বাড়ির বাসিন্দা যুবক এনামুল তার চুরি হওয়া হাঁস খুঁজতে বের হন। সকালে শানুর পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে পোড়া গন্ধ বের হলে রনির কাছে তিনি জানতে চান-মাটি গর্ত করে কি পোড়ানো হচ্ছে? তার জবাব সন্দেহজনক হওয়ায় ভাই রুমানকে নিয়ে এনামুল সেখানে কি পোড়ানো হচ্ছে তা দেখতে চান। এ সময় রনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারধরের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এরপর গ্রামের লোকজনকে তারা একত্রিত করেন। ওই গর্তে মানুষের লাশ পোড়াতে দেখে তারা রনিকে বেঁধে থানায় খবর দেন।

আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) শাহীনূর ইসলাম জানান, যুবলীগ নেতার ছেলে রনি ভোররাতে নারী হরলুজা বেগমকে পরিত্যক্ত ঘরে হত্যা করে। এরপর দেহ থেকে মাথা ছিন্ন করে ঘরে গর্ত করে লাশ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা করে। দেহের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। পরে রনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের পুকুর পাড় থেকে মাথা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। রনির বাবা যুবলীগ নেতা শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া শানু পলাতক।
নিহত শারমিনের মেয়ে জিমা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, কাজের সন্ধানে আমার আব্বা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এরপর মিথ্যা কথা বলে রনি আমার মাকে ভোরবেলা তার বাড়িতে নিয়ে যায়। কেন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করল। তার ধারণা-রনি তার মাকে হয়তো ধর্ষণ করেছে। মা যাতে কাউকে না জানাতে পারে সেজন্য হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে। তিনি তার মায়ের হত্যাকারীর বিচার দাবি করেন।
শারমিনের স্বামী নূরুল ইসলাম ব্যাপারী যুগান্তরকে বলেন, হীরাপুর গ্রামে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া শানুর জমিতে ঘর তুলে আমরা বসবাস করে আসছি। তাদের পরিবারে সবার সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাদের পরিবারে যে কোনো কাজে আমরা সহযোগিতা করি। মঙ্গলবার ভোরবেলা কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হই। দুপুরের দিকে শুনতে পাই আমার স্ত্রীকে শানুর ছেলে রনি মেরে ফেলেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কি কারণে এ ঘটনা সে ঘটিয়েছে আমি বুঝতে পারছি না। যে ছেলে আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে তাকে কোলে-পিঠে আমরা বড় করেছি। আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই, আমি তার ফাঁসি চাই। জানা গেছে, মাদক সেবন ও চুরি-ছিনতাই করার কারণে রনির স্ত্রী দুই বছর আগে তাকে ছেড়ে গেছে। তার অমানুষিক অত্যাচারে তার বাবা-মা বাড়িতে থাকতে পারে না। কয়েকদিন ধরে রনির অত্যাচারে তার বাবা যুবলীগ নেতা শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া শানু পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাড়িতে একাই থাকে রনি।



















