বুধবার , ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ | ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কিশোর সংবাদ
  6. খেলাধুলা
  7. গ্রাম-অঞ্চল
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. প্রবাসী
  11. প্রাণী জগৎ
  12. বাজার হাট
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. ভূতের আড্ডা

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিরল প্রজাতির বন্য ভালুকের সন্ধান, বিশেষ সতর্কতা

প্রতিবেদক
Janatar Kagoj
জানুয়ারি ২৯, ২০২৫ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গভীর অরণ্যে এশিয়াটিক ব্ল্যাক প্রজাতির একটি ভালুকের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিরল এই প্রজাতির বন্য ভালুক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক স্বভাবের হয়। ইতিমধ্যে বনের ভেতরে পর্যটকসহ জনসাধারণের প্রবেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে উদ্যান কর্তৃপক্ষ।
উদ্যান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুনারুঘাটের রঘুনন্দন পাহাড়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। ২৪৩ হেক্টর আয়তনের এ উদ্যানের পাশ ঘেঁষে আছে ৯টি চা-বাগান। উদ্যানের ভেতরে টিপরা পাড়ায় পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ২৪টি পরিবার বসবাস করে। ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তু ও ১৫০ থেকে ২০০ প্রজাতির পাখি আছে উদ্যানে। বাংলাদেশের সংরক্ষিত এ বনাঞ্চল পাখিদের অভয়াশ্রম। বনের ভেতরে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, কুলু বানর, মেছোবাঘ, মায়া হরিণও আছে।

সাতছড়ির টিপরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সন্তান হারিস দেব বর্মা (৩০) স্থানীয়ভাবে শৌখিন ফটোগ্রাফার হিসেবে পরিচিত। তিনি বনের ভেতরে প্রাণ-প্রকৃতির নানা ছবি তোলেন। অতি সম্প্রতি তিনি উদ্যানের গভীর অরণ্যে ছবি তুলতে গিয়ে বিরল প্রজাতির বন্য ভালুকের (এশিয়াটিক ব্ল্যাক প্রজাতি) সন্ধান পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রাণীটির ছবি তোলেন।
হারিস দেব বর্মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বিরল প্রজাতির ভালুকটি দেখে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে এই বনে ওদের বসবাস আছে। দেখামাত্রই ছবি তুলতে দেরি করিনি। পরে সেই ছবি প্রাণীবিশেষজ্ঞদের দেখানোর পর নিশ্চিত হই যে প্রাণীটি এশিয়াটিক কালো ভালুক।’

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ গণমাধ্যকে বলেন, ‘আমাদের ভিলেজার হারিস দেব বর্মার মাধ্যমে আমরা প্রথম সাতছড়িতে এ ধরনের ভালুক থাকার বিষয়টি জানতে পারি। পরে আমরা অনুসন্ধান করে সত্যতা পাই। এটি বিরল প্রাণী। এটির সংরক্ষণে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। পর্যটকদের উদ্যানের ভেতরে প্রবেশে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকার বিষয়টি সতর্ক করেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এর দ্বারা আক্রান্ত হয়নি।’ তিনি বলেন, তাঁরা ভালুক থাকার বিষয়টি জানার পর নজরদারি বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি বন ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আবদুল জাহির মিয়া। তিনি বলেন, বনের ভেতরে বসবাস করা মানুষ বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে বন্য প্রাণী রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে আরও আন্তরিক হতে হবে। প্রাণীগুলো কেউ যাতে শিকার বা নিধন না করে, সে ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে। যে ভালুকের সন্ধান মিলেছে, তার বসবাসযোগ্য পরিবেশ ও খাদ্য জোগানের দায়িত্ব এখন বন বিভাগের। পাশাপাশি বনের ভেতরে বন্য প্রাণী শিকার ও বনভোজনের জন্য গানবাজনার আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ - আইন আদালত