ঢাকা: শিক্ষা ‘প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরাতে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ’। এর আগে সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি জানান, একতা ও সংহতির বার্তা নিয়ে প্রতিটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যাবেন তারা।
১৮টি ছাত্র সংগঠন বৈঠকে অংশ নেয়।
এ সময় আলোচনায় উঠে আসে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব। এছাড়া সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই পুনর্বাসিত হবে না, এটি নিয়ে একমত সব ছাত্র সংগঠন। গত তিন জাতীয় নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানান ছাত্র নেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদের মধ্যকার সংঘর্ষসহ দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৮টি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যাত্রাবাড়ীর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের অভিজিৎ হালদার নামের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে ১৬ নভেম্বর সকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়। ১৮ নভেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু ভুল চিকিৎসায় অভিজিতের মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে রোববার (২৪ নভেম্বর) ওই হাসপাতাল ঘেরাও কর্মসূচি দেন মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত সেই ‘সুপার সানডে’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ও পাশের শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালান মোল্লা কলেজসহ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
ওই সময় সোহরাওয়ার্দী কলেজে চলতে থাকা অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ওই হামলা ও ভাঙচুরের ‘জবাব’ দিতে রাত থেকেই অনলাইনে-অফলাইনে সংঘবদ্ধ হতে থাকেন সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও পাশের নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে তারা জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে গিয়ে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা চালান। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘাতে রণক্ষেত্র পরিণত হয় যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোড। এতে আহত হয়ে অন্তত ৩৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ ও মুখপাত্র উমামা ফাতেমা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, ঢাবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ, স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের সভাপতি জামালুদ্দিন মোহাম্মদ খালিদ, ইসলামী শাসনতন্ত্রের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মুনতাসির আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসাইন নূর ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সেক্রেটারি নাজমুল হাসান, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড, সেক্রেটারি সৈকত আরিফ প্রমুখ।






















