পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে রমজানের প্রথম দিনই ইফতারসামগ্রীর বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দেখা গেল দোকানিরা নানা পদের ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। হাজারো ক্রেতার ভিড় করছেন পছন্দের পদ কিনতে।
তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ইফতারসামগ্রীর ওপরও। বিশেষ করে মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদের দাম কিছুটা বেড়েছে; তবে পেঁয়াজু, আলুর চপ ও বেগুনির মতো ভাজাপোড়া আইটেমের দাম গতবারের মতোই রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরান ঢাকার বাসিন্দারা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চকবাজারে এসেছেন পছন্দের ইফতারসামগ্রী কিনতে। তাঁদের একজন ধানমন্ডির জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশীদ। তিনি জনতার কাগজকে বলেন , ‘প্রতিবছরই এখানে ইফতারি কিনতে আসি। দাম কিছুটা বেশি হলেও স্বাদের জন্যই চকবাজারের ইফতারি মিস করি না।’

মাংস দিয়ে তৈরি ইফতারসামগ্রীর দাম বেড়েছে
সুতি কাবাব, খাসির লেগ রোস্ট, আস্ত মুরগির রোস্ট, হালিমের মতো মাংসজাতীয় খাবারের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এ বছর সুতি কাবাব প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকায়। গত বছর যা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। খাসির লেগ রোস্ট এবার প্রতি কেজি ১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, গত বছর এই রোস্ট বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকায়।

তন্দুরি চিকেন এবার প্রতি পিস ৪০০ টাকা রাখা হচ্ছে, গতবার যা ছিল ৩০০ টাকা। ছোট আকৃতির কোয়েলের রোস্ট প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। গত বছর এটি ছিল ৬০ টাকা।
এদিকে চকবাজারের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইফতার আইটেম ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ৩৬টি উপকরণ থাকে, যার মধ্যে আছে খাসির মাংস, মুরগির মাংস, বুটি কাবাব, ডিম, আলু, ছোলা, ঘি, বিশেষ মসলা ইত্যাদি।
চকবাজারে ইফতার বাজার বসে শাহি মসজিদের সামনে সার্কুলার রোডের দুই পাশজুড়ে। রোজার প্রথম দিনে পবিত্র জোহরের নামাজের পর থেকেই বিক্রেতারা বাহারি ইফতারসামগ্রী নিয়ে সেখানে বসেছেন। এবার অবশ্য পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি পিস ৫ টাকা করেই বিক্রি হচ্ছে। গতবারও এই দামে বিক্রি হয়েছিল।




















