প্রেশার কমে গেলে তাৎক্ষণিক কী খাবেন❓
ডেস্ক নিউজ : নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেশারে খুবই পরিচিত একটি শব্দ । এটির আরেকটি নাম হাইপোটেনশন । হাই ব্লাড প্রেশার যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনই লো ব্লাড প্রেশারও ক্ষতির কারণ হতে পারে ।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার তারেক আহমেদ চৌধুরীর কাছ থেকে চলুন বিস্তারিত জেনে নিই..!
☑️ লো ব্লাড প্রেশার কী ❓
মানবদেহের রক্তচাপ স্বাভাবিক রক্তচাপের চেয়ে কমে গেলে সেটাকে লো ব্লাড প্রেশার বলে । মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি । এই চাপের মাত্রা ৯০/৬০ মিলিমিটার মার্কারির নিচে চলে এলে লো ব্লাড প্রেশার বা নিম্ন রক্তচাপ ।
☑️ লো ব্লাড প্রেশারের কারণ ও লক্ষণ : ডাক্তার তারেক আহমেদ চৌধুরী জানান, লোপ্রেশার বিভিন্ন কারণে হতে পারে । এটি উচ্চ রক্তচাপের মতো কোনো রোগ নয় । অনেকের প্রায় সময়ই রক্তচাপের মাত্রা কম থাকে । এটা হতে পারে হরমোনজনিত কারণে । আবার কারো কারো দেখা যায় হঠাৎ করেই রক্তচাপ কমে যায় । বিভিন্ন অসুস্থতাজনিত কারণে এটা হতে পারে । আবার ব্যায়াম, ক্লান্তির কাজ এবং ঠিকমত না খেলেও রক্তচাপ কমে যেতে পারে । তাই লো প্রেশার কেন হল সেটা আগে বুঝতে হবে ।
🚫 চিনি খাওয়ার যত বিপদ : লো প্রেশার হলে মাথা ঘোরা, বমিভাব, অজ্ঞান হওয়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তভাব এরকম কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে । দীর্ঘদিন ধরে লো প্রেশারের সমস্যা থাকলে পরে এটি জটিল রোগের সৃষ্টি করে । এটি যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে ।
✅ লো ব্লাড প্রেশারে কী খাবেন ⁉️ যাদের রক্তচাপ প্রায় সময় কম থাকে এবং কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের কারণে লো ব্লাড প্রেশার হয় তারা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার রাখতে পারেন । এতে ধীরে ধীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় চলে আসবে ।

আয়রন, ভিটামিন সি, বি ১২, ও ফলেট শরীরের রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে । এই সব খাদ্য উপাদানগুলো যে খাদ্যের মধ্যে পাওয়া যায় সেসব খাদ্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে ।
ডিম হাইপোটেনশনের রোগীদের জন্য উপযোগী খাদ্য । ডিমকে আদর্শ খাদ্যও বলা হয় । ডিমে আছে ভিটামিন বি ১২, যা রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে ।
প্রতিদিন তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে । স্যুপ, কফি, ফলের রস, দুধ, শরবত ইত্যাদি তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে ।
টক জাতীয় ফলে থাকে ভিটামিন সি । এ ছাড়াও পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা সোডিয়ামের কার্যকারিতা ঠিক রাখে । তাই লেবু, মালটা, কমলা জাতীয় ফল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে ।

গরু, মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ, ডাল, লাল শাক, পালং শাক, কচু শাক, সিমের বিচি, মিষ্টি কুমড়ার বিচি ও শুকনা ফল আয়রনের ভালো উৎস । এ ছাড়া এতে সোডিয়াম ভালো পরিমাণে থাকে ।
ডাবের পানিতে থাকে সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়ায় । তাই ডাবের পানি খাওয়া ভালো ।
যাদের ব্লাড প্রেশার একদম লো থাকে তারা ডার্ক চকলেট খেতে পারেন । এটি রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে ।
অসুস্থতাজনিত কারণে যেমন জ্বর, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণে প্রেশার কমে যেতে পারে ।
এ সময়ে তাৎক্ষণিক যেসব খাবার দিলে উপকার পাওয়া যেতে পারে –
স্যালাইন প্রেশার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । স্যালাইন খেলে তাৎক্ষণিক প্রেশার বাড়তে থাকে । এ ছাড়া লবণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে হালকা একটু চিনি যোগ করে খাওয়ানো যেতে পারে ।
আঙ্গুরের রসও প্রেশার বাড়ানোর জন্য খুবই উপকারী ।
লবণযুক্ত খাবার যেমন চিপস, স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে ।
অধ্যাপক ডাক্তার তারেক আহমেদ চৌধুরী
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী



















