বৃহস্পতিবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কিশোর সংবাদ
  6. খেলাধুলা
  7. গ্রাম-অঞ্চল
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. প্রবাসী
  11. প্রাণী জগৎ
  12. বাজার হাট
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. ভূতের আড্ডা

চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নদভীর বেপরোয়া সম্রাজ্য

প্রতিবেদক
Janatar Kagoj
ডিসেম্বর ২৬, ২০২৪ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

জেলা প্রতিনিধি : তিন বছর আগে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও আওয়ামী লীগের নেতা আবু রেজা মোহাম্মদ নদভী। তখন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে চর দখলের মতো প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যত অর্থ ব্যয় করেছেন তার সিংহভাগই করা হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে। এ ছাড়া সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশও এসেছে প্রতিষ্ঠানটি থেকে। অবস্থা এমনই, নদভীর বাসায় ফুলের টব লাগবে— সেটিও আইআইইউসি থেকে নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম- ১৫ আসন থেকে দশম ও একাদশ নির্বাচনে দুবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নদভী। জামায়াতের কর্মপরিষদের সাবেক সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির প্রয়াত মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জামাতা নদভী একসময় আইআইইউসি’র শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে বরখাস্ত করা হয় তাকে। জামায়াতের তকমা গায়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হওয়ার পর চরম বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নদভী। তার হাতেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ছাড়া মামলা-হামলায় বাড়িছাড়া হয়েছেন অনেকে। আওয়ামী লীগের অন্য সব নেতার তুলনায় নদভীর হাতেই জামায়াতের কর্মীরা বেশি নির্যাতিত হয়েছেন— এমন অভিযোগও রয়েছে।

আইআইইউসি টাওয়ার থেকে নদভী সম্মানী নিতেন ১০ লাখ নয় হাজার ৩৩৩ টাকা। এর বাইরে গাড়ির জ্বালানিবাবদ নিতেন ৫০ হাজার এবং মোবাইল বিলবাবদ নিতেন সাত হাজার টাকা। এ ছাড়া দুই ঈদে উৎসব ভাতা হিসেবে প্রতিবার নিতেন ছয় লাখ ২২ হাজার ২২৩ টাকা। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও নদভীর বউ রিজিয়া রেজা সুলতানা টাওয়ার থেকে সম্মানী হিসেবে পেতেন দুই লাখ ৭০ হাজার ৬৬৭ টাকা। তিনি মোবাইল বিল পেতেন তিন হাজার টাকা। আর দুটি উৎসব ভাতার প্রতিটিতে পেতেন দুই লাখ ২২ হাজার ২২৩ টাকা

এমপি হিসেবে দায়িত্বপালনকালে নদভীর কাছে কেউ সহায়তা চাইলে তিনি ফিরিয়ে দিতেন না। তবে, সেই সহায়তা দেওয়া হতো আইআইইউসি’র ফান্ড থেকে। নদভীর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনে’ কেউ কিছুর জন্য আবেদন করলে সেটিও দেওয়া হতো বিশ্ববিদ্যালয়টির ফান্ড থেকে। এমপি হিসেবে নদভী যাতায়াতসহ নানা ভাতা সংসদ থেকে পেতেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো- ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত শুধুমাত্র দেশের ভেতরে যাতায়াতে বিমানের ভাড়াবাবদ নিয়েছেন ৩৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এর বাইরে তিনি আইআইইউসি’র কাছ থেকে তেল খরচসহ গাড়ির সুবিধা নিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও আওয়ামী লীগের নেতা আবু রেজা মোহাম্মদ নদভী ও চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি) টাওয়ার । 

আগের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে। তাদের উপহার হিসেবে দেওয়া হতো আইআইইউসি’র ফান্ড থেকে মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু এক দুদক কর্মকর্তাকে তিনি ঘুষ হিসেবে কাগজে-কলমে দিয়েছিলেন ১০ লাখ টাকা।
আইআইইউসি টাওয়ার থেকে বেশি লুটপাট
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত আইআইইউসি টাওয়ার। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও আইআইইউসি ফান্ডের সহায়তায় ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মিত হয়। এখান থেকে মাসে গড়ে ৯০ লাখ টাকা আয় হয়। কথা ছিল আইআইইউসি টাওয়ার থেকে অর্জিত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদের কল্যাণে ব্যয় হবে। কিন্তু নদভী দায়িত্ব নেওয়ার পর টাওয়ারটির দিকে নজর দেন। দায়িত্বপালনকালে টাওয়ারটি থেকে নদভী সম্মানী নিতেন ১০ লাখ নয় হাজার ৩৩৩ টাকা। এর বাইরে গাড়ির জ্বালানিবাবদ নিতেন ৫০ হাজার এবং মোবাইল বিলবাবদ নিতেন সাত হাজার টাকা। এ ছাড়া দুই ঈদে উৎসব ভাতা হিসেবে প্রতিবার নিতেন ছয় লাখ ২২ হাজার ২২৩ টাকা। ওই সময় ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী দ্বীন মোহাম্মদ টাওয়ার থেকে সম্মানী নিতেন ছয় লাখ ৩০ হাজার ৬৬৭ টাকা। তিনিও আনলিমিটেড জ্বালানি এবং মোবাইল বিলবাবদ তিন হাজার টাকা করে পেতেন। এ ছাড়া বছরে দুটি উৎসব ভাতা হিসেবে প্রতিবার পেতেন চার লাখ ১৭ হাজার ৭৭৭ টাকা।

এমপি হিসেবে দায়িত্বপালনকালে নদভীর কাছে কেউ সহায়তা চাইলে তিনি ফিরিয়ে দিতেন না। তবে, সেই সহায়তা দেওয়া হতো আইআইইউসি’র ফান্ড থেকে। নদভীর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনে’ কেউ কিছুর জন্য আবেদন করলে সেটিও দেওয়া হতো বিশ্ববিদ্যালয়টির ফান্ড থেকে। এমপি হিসেবে নদভী যাতায়াতসহ নানা ভাতা সংসদ থেকে পেতেন। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো- ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত শুধু দেশের ভেতরে যাতায়াতে বিমানভাড়া বাবদ নিয়েছেন ৩৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এর বাইরে তিনি আইআইইউসি’র কাছ থেকে তেল খরচসহ গাড়ির সুবিধা নিয়েছেন

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও নদভীর বউ রিজিয়া রেজা সুলতানা টাওয়ার থেকে সম্মানী হিসেবে পেতেন দুই লাখ ৭০ হাজার ৬৬৭ টাকা। তিনি মোবাইল বিল পেতেন তিন হাজার টাকা। আর দুটি উৎসব ভাতার প্রতিটিতে পেতেন দুই লাখ ২২ হাজার ২২৩ টাকা।
নদভীর লুটপাটে সহায়তাকারীরাও পেতেন ভাতা
আইআইইউসিতে চাকরি করেন এমন অন্তত আটজনকে অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হতো টাওয়ারের আয় থেকে। ভবনটির ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন না হলেও অতিরিক্ত এসব কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের ভাতা দেওয়া হতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইআইইউসি’র বেতনের পাশাপাশি টাওয়ার থেকে সম্মানী হিসেবে তৎকালীন রেজিস্ট্রার আখতারুজ্জামান কায়সারকে ৭০ হাজার, ট্রেজারার মহিউদ্দিন মাহীকে ৮৫ হাজার, ডিরেক্টর (ইনচার্জ) মাহফুজুর রহমানকে ৪০ হাজার, ইফতেখার উদ্দিনকে ২৫ হাজার, ফয়সাল আহমেদকে ২৫ হাজার, ডিরেক্টর (ইনচার্জ) ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইফতেখারুল আলমকে ২৫ হাজার, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিয়াউর রহমানকে ২০ হাজার এবং ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সারোয়ার আলমকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো। ‘নদভীর লুটপাটে সহায়তাকারী’ বিবেচনায় তাদের অতিরিক্ত এ ভাতা দেওয়া হতো বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মকর্তা-শিক্ষকেরা।

সর্বশেষ - আইন আদালত